কানাডায় আজিজুর রহমান প্রিন্স নেতা বানানোর বানিজ্য চালাচ্ছে!

0


নিউজ ডেস্ক : সাবেক বিএনপি নেতার অংশগ্রহনে প্রিন্সের স্ব-ঘোষিত কানাডা আওয়ামী লীগ কমিটি গঠনের প্রতিবাদের ঝড়। ১ মার্চ কানাডার টরেন্টোতে এককর্মী সভা ও সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময় সভার মাধ্যমে নিজেকে সভাপতি হিসেবে ঘোষনা করলেন আজিজুর রহমান প্রিন্স এবং সাথে সাধারন সম্পাদক হিসেবে যুক্ত করেছেন বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ইতরাদ জুবেরী সেলিমকে। 


প্রকাশ্যে ঘোষনা দিলেন যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাকে ই-মেইলের মাধ্যমে জানিয়েছেন মুজিব বর্ষ পালনের জন্য কমিটির দায়িত্ব নিতে। তার এই ঘোষনার সময় কর্মী সভার সর্ব সাকুল্যে ১৫ জন প্রতিনিধির উপস্থিতি ছিল। যাদের মধ্যে কেউ কেউ সম্প্রতি বিএনপি থেকে যোগ দেয়া নব্য আওয়ামীলীগার। 
প্রিন্সের এই ঘোষনার সাথে সাথে টরেন্টো ও মন্ট্রিয়ালের সর্বস্তরের আওয়ামী লীগ কর্মীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। সামাজিক মিডিয়ায় প্রিন্স ও সেলিম গংদের মিথ্যাচার দলের কমিটিকে ক্যু করার বিরুধ্বে প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। 


টরেন্টো ও মনট্রিয়ালে ক্যানাডা আওয়ামী লীগ, টরেন্টো আওয়ামী লীগ ও কুইবেক আওয়ামী লীগ পৃথক পৃথক সভার মাধ্যমে এই ঘোষনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং দলীয় সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অন্টারিও আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১লা মার্চের প্রতিবাদ সভায় টরেন্টোস্থ ক্যানাডা আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম সহ সদস্যগন প্রতিবাদ করেন। 


গত ২রা মার্চ মন্ট্রিয়ালে কানাডা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ রহমত উল্লাহ্‌র সভাপতিত্বে ডাউন টাউনের স্টার অব ইন্ডিয়া রেষ্টুরেন্টে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সহ-সভাপতি তোফাজ্জল আলী (টেলিফোনে) সৈয়দ আজাদ আলী, বজলুর রশীদ ব্যাপারী, জি এম মোতাহির মিয়া, মঞ্জুরুল চৌধুরী, তাজুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মুহিবুর রহমান, বাকি বিল্লাহ বকুল ও কুইবেক আওয়ামীলীগের নেতা আলামিন শিকদার, ফয়জুল ইসলাম, সুলতান আহমেদ, এখলাসুর রেজা, পুলক তরফদার তাদের বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে প্রিন্সের ঘোষনাকে মাননীয় নেত্রী শেখ হাসিনার নাম ব্যবহার করে মিথ্যাচার ও গঠনতন্ত্র বিরোধী কাজ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।


বক্তাগন বলেন, কমিটি ঘোষনার প্রাক্কালে সদ্য মন্ট্রিয়ালেত বিএনপি থেকে মুন্সী বশীর ও সাজ্জাদ হোসেন সুইটের নেতৃত্বাধীন কুইবেক আওয়ামী লীগের একটি অংশ সদ্য যোগদানকারী বিএনপির সক্রিয় সদস্যরা প্রিন্স ও সেলিমের সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য দেয়। 


কানাডা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মাহমুদ মিয়া, যিনি কিনা ২০১৬ ও ২০১৮ তে মন্ট্রিয়াল ও টরেন্টোতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরকালীন সময় তাকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন তাকে, তার ভাই আওয়ামী লীগ নেতা জি এম মোতাহির মিয়ার বিরুদ্ধে বিএনপির সাথে ঐ নেতাদের দিয়ে কানাডিয়ান পুলিশের কাছে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে এবং মন্ট্রিয়াল কুইবেক আওয়ামী লীগের এই খন্ডিত অংশ স্থানীয় বিএনপির কয়েকজনকে নিয়ে ঐ ব্যাক্তিকে দিয়ে মামলা করে প্রিন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তা প্রচার করে।


এই নগ্ন ঘটনার বিরুদ্ধে কানাডা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তার ভাই ক্যানাডার আদালতে মানহানীর মামলা করে যা এখনো বিচারাধীন। সভায় বিএনপির সাথে ঐ নেতা কর্তৃক মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের স্বীকার ক্যানাডা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহমুদ মিয়া ও তার ভাই মোতাহির মিয়া গত সেপ্টেম্বরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিউইয়র্কে দেখা করে তার কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।


প্রতিবাদ সভায় ঐ ঘটনার শিকার মোতাহির মিয়া তাকে ও তার পরিবারকে বিএনপির ঐ সদস্য কতৃক পুলিশী হয়রানীর চিত্র তুলে ধরে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন এবং প্রিন্স ও সেলিম কতৃক বিএনপি-জামাত থেকে আগত ঐ সকল সদস্যদের নিয়ে কমিটি ঘোষনার সভা ও মুজিব বর্ষ করার তীব্র প্রতিবাদ করেন ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর বিচার দাবী করেন। 


গত ৩রা মার্চ ক্যানাডা আওয়ামী লীগের সভাপতি জি এম মাহমুদ মিয়া তার কমিটির বিষয়ে রেকর্ডকৃত ভিডিও বার্তা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করে। সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, আজিজুর রহমান প্রিন্স’র ঘোষনার সাথে দলীয় সভানেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশনা বা আদেশ কোন কিছুরই সম্পর্ক নাই। তিনি এটাকে একটা মিথ্যাচার বলে আখ্যায়িত করে বলে, প্রিন্স দলীয় অভ্যন্তরীন সমস্যাকে জনসম্মুখে প্রচার করে দলের ভাবমুর্তি শুধু ক্ষুন্ন করেননি, তিনি দলকে প্রকাশ্যে বিভাজন করার মত কাজ করেছেন। 


তিনি তার বক্ত্যবে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে মাননীয় নেত্রী শেখ হাসিনা ক্যানাডা আওয়ামী লীগ স্থগিত বা বাতিল করেননি। তিনি বলেছেন নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে না পারলে তিনি এর কার্যক্রম স্থগিত করে দেবেন। 


তিনি আরও বলেন, নেত্রী কমিটি পুনর্গঠন অথবা নতুন কমিটি গঠন করার নির্দেশনা দিলে তা বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক দুজকেই দিবেন। সভাপতিকে বাদ দিয়ে সাধারন সম্পাদকের ঘোষনার সাথে মাননীয় নেত্রীর মত একজন বিজ্ঞ নেত্রীর সমর্থন থাকবে তা অকল্পনীয়। 


জনাব মাহমুদ মিয়া প্রিন্সের সাধারন সম্পাদক ঘোষনাকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং দলীয় শৃংখলা পরিপন্থি বলে আখ্যায়িত করে একে প্রত্যাখান করেন এবং তার ঐ অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে দলীয় নেতা কর্মীদের আহবান জানান। তিনি বলেন মাননীয় জননেত্রী তাকে নির্দেশ দেওয়ার সাথে সাথে তিনি দলীয় সিদ্ধান্ত কার্যকর করার পদক্ষেপ নিবেন। 


তিনি লন্ডনের একটি হাসপাতালে শয্যাশায়ী তার স্তীর পাশে অবস্থান করছেন এবং কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করার ও করনীয় সংক্রান্ত বিষয়ে নেত্রীর নির্দেশের জন্য দেশে যাবেন। ক্যানাডা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহমুদ মিয়ার ভিডিও বার্তাটি এখানে দেয়া গেল। 
সম্মানিত ক্যানাডা আওয়ামী লীগ, অন্টারিও আওয়ামী লীগ, কুইবেক আওয়ামী লীগ সহ ক্যানাডার সর্বস্তরের আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠন সমুহের নেতৃবৃন্দ, সদস্যবৃন্দ ও শুভাকাংখীবৃন্দ আসসালামু আলাইকুম, আদাব ও নমস্কার। 
আমি অতি বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করলাম গত ১লা মার্চ ক্যানাডা আওয়ামী লীগের আজিজুর রহমান প্রিন্স মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আওয়ামীলীগ সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার রেফারেন্স দিয়ে একটি ক্যানাডা আওয়ামী লীগ কমিটি ঘোষনা দিয়েছে। সভাপতি হিসেবে নিজেকে ও সাধারন সম্পাদক ইতরাদ জুবেরী সেলিম। 


সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত ভিডিও ক্লিপে প্রিন্সের বক্তব্য জানতে পারলাম। তিনি এও বলেছেন যে, আমার সম্মতি নিয়েই তিনি এই কমিটি ঘোষনা করেছেন, নিজেকে সভাপতি করে। সম্মানিত বন্ধুগন, আমি প্রথমেই আপনাদের বলে দিতে চাই আজিজুর রহমান প্রিন্সের সাথে ক্যানাডা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি গঠন প্রসঙ্গে কোন আলাপই হয়নি। 


গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে মাননীয় নেত্রী শেখ হাসিনার সাথে আমরা ক্যানাডা আওয়ামী লীগ ও শাখা কমিটি সমুহের নেতৃবৃন্দ এক সাক্ষাৎকারে মিলিত হলে তিনি বলেছিলেন আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে না পারি তাহলে কমিটির কার্যক্রম স্থগিত থাকবে কিন্তু তিনি কমিটি বাতিল করেননি এবং কোন নতুন কমিটি গঠনের নির্দেশও দেননি। 


প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেশ ও নির্দেশকে সম্মান জানিয়ে আমি ক্যানাডা আওয়ামী লীগের ঐক্যকে অটুট রাখতে এবং সদস্যদের মধ্যে প্রান চাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনতে সাধারন সম্পাদকের অনেকবার ফোনালাপ করেছি এবং অনুরোধ করেছি তাকে সবাইকে নিয়ে কাজ করবার জন্য তিনি আমার কথার কোন কর্ণপাত করেননি বরং দলের মধ্যে বিশৃংখলা পরিবেশ তৈরী করেছেন এবং ক্যানাডা সহ বহির্বিশ্বে দলের অভ্যন্তরীন সমস্যা গুলিকে জনসম্মুখে সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে প্রচার করে দলের ভাবমুর্তী ক্ষুন্ন করেছেন। 


আমি দলের ভিতরের কোন দ্বন্দ অথবা বিতর্ক কখনোই জনসম্মুখে নন-আওয়ামীলীগারদের মধ্যে প্রচার করিনি এবং সাধারন সম্পাদকের বিরুদ্ধে কোন অফিসিয়াল কথা জনসম্মুখে বলিনি যা প্রকারান্তে আমাদের সকলের বিরুদ্ধে যেত বলে আমি মনে করি। আমি দৃঢ়ভাবে আল্লাহকে স্বাক্ষী রেখে বলতে চাই আমি যা বলতেছি সত্য বলতেছি। মাননীয় নেত্রীর দেয়া কমিটি আজও বলবৎ আছে এবং নেত্রী আমাকে কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠন করার জন্য কোন নির্দেশও দেননি এখনো। 


আমি তার নির্দেশ পাওয়া মাত্রই ক্যানাডা আওয়ামী লীগের ত্যাগী সৎ নেতা-কর্মীদের নিয়ে সম্মেলনের মাধ্যমে একটি কমিটি গঠন করবো। বর্তমানে আজিজুর রহমান প্রিন্স যে স্ব-ঘোষিত কমিটির কথা বলেছেন তা গঠনতন্ত্র বিধিসম্মত নয় এবং এটি অবৈধ। মাননীয় নেত্রীর কোন নির্দেশ আমাকে এবং তাকে এখনও দেননি। আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। এটা মিথ্যাচার।তার এই ঘোষনা গঠনতন্ত্র বিরোধী। 
আসুন আমরা সবাই মিলে জননেত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়ন করতে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করি। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।