চালককে বাথরুমে বন্দী রেখে যা করলেন মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান

0

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান হোসেনেয়ারা বকুলের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর অভিযোগ উঠেছে। তিনি এক প্রাইভেটকারের চালককে বাথরুমে আটক রেখে নির্যাতন করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনেন ওই চালক নিজেই। জানা যায়, ভাইস-চেয়ারম্যানের গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগায় এমন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী চালক শরীফ মিয়া কুমিল্লা কোতয়ালি থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

জানা যায়, কুমিল্লার ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট ইস্পাহানি স্কুল অ্যান্ড কলেজের গাড়ি পার্কিংয়ে ঘটনাটি ঘটে। মারধর ও নির্যাতনের শিকার শরীফ কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার কুচাইতলী এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে। তিনি কুমিল্লা নূর জাহান হোটেলের স্বত্ত্বাধিকারী রাসেদুল ইসলামের প্রাইভেটকার চালক।

মারধরের শিকার শরীফ মিয়ার অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাসেদুল ইসলামের মেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী গাড়ি থেকে নেমে যাওয়ার পর কুমিল্লা ময়নামতি ক্যান্টনম্যান্ট ইস্পাহানি স্কুল অ্যান্ড কলেজের পার্কিংয়ে গাড়ি রাখতে গেলে অভিযুক্ত হোসনেয়ারা বকুলের গাড়ি চালক আমার প্রাইভেটকারের পেছনে ধাক্কা দেয়। প্রায় ১০ হাজার টাকার ক্ষতি হয় এতে।

পরে আমি প্রতিবাদ করলে হোসনেয়ারা বকুল গাড়ি থেকে নেমে আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করে এবং মোবাইল ফোনে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের ডেকে আনেন। কিছুক্ষণ পর দুই-তিনজন লোক এসে আমাকে এলোপাথাড়ি কিলঘুষি দেন। এরপর আমার গাড়ি থামিয়ে টেনে হেঁচড়ে অভিযুক্তর গাড়িতে তুলে দেন। পরে আমাকে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের দিয়ে চেয়ারম্যানের বসতবাড়িতে এনে বাথরুমে আটক রেখে নির্যাতন করেন।

শরীফ আরও বলেন, আমি বাঁচার জন্য আকুতি জানিয়ে মোবাইল ফোনে আমার গাড়ির মালিককে জানালে তিনি পুলিশ পাঠিয়ে আমাকে বাথরুম থেকে উদ্ধার করেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে হোসনেয়ারা বকুল বলেন, গাড়িতে ধাক্কা লাগায় আমি প্রতিবাদ করতে গেলে স্থানীয় লোকাজন ওই চালককে মারধর করতে এলে আমি তাকে উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে আসি। তিনি থানায় যে অভিযোগগুলো করেছেন সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল হক বলেন, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান হোসনেয়ারা বকুলের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে আমরা তদন্ত করছি।