আমি নিজেকে অভিনেত্রী হিসেবে দেখতে চাই : শ্রাবন্তী

0

দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। দুই বাংলাতেই রয়েছে তার সমান গ্রহণযোগ্যতা। ছবিও করছেন এখন এপার-ওপার মিলিয়ে। তার রূপ ও সৌন্দর্যের জন্য মাতিয়ে রেখেছেন ঢালিউড-টলিউডের বাজার। সর্বশেষ তাকে বাংলাদেশের ‘যদি একদিন’ সিনেমায় দেখা গেছে।

মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ছবিতে তিনি অভিনেতা ও সংগীতশিল্পী তাহসানের বিপরীতে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছেন। বর্তমানে তিনি কাজ করছেন বাংলাদেশের ‘বিক্ষোভ’ ছবিতে। শাপলা মিডিয়া প্রযোজিত ছবিটি পরিচালনা করছেন শামীম আহমেদ রনি। ছবি ও সমসাময়িক বিষয়ে কথা বলেন শাকিলুর রহমান

গত ১০ জানুয়ারি ঢাকায় আসার কথা ছিল শ্রাবন্তীর। শুধু তাই নয়, ওই দিন বিএফডিসিতে শুটিংয়ে অংশ নেয়ারও কথা ছিল। নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী সেট নির্মাণসহ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন পরিচালক।

হঠাৎ শ্রাবন্তীর মামাশ্বশুর মারা যাওয়ায় ঢাকায় আসতে পারেননি তিনি। তবে শনিবার (১৮ জানুয়ারি) ‘বিক্ষোভ’ সিনেমার শুটিংয়ে যোগ দিয়েছেন কলকাতার এই অভিনেত্রী। সকালের ফ্লাইটে ঢাকায় এসে সরাসরি বিএফডিসিতে শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন তিনি।

বিএফডিসিতে শূটিং চলাকালীন সময় এ অভিনেত্রীর সাথে কথা হয়। শুরুতেই প্রশ্ন রাখি গত দশ জানুয়ারি বাংলাদেশের আসার কথা থাকলেও আসতে পারেননি। তবে একটি সূত্রে জানতে পারি আপনি সে সময় নাকি কলকাতায় স্টেজ প্রোগ্রাম নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন?

শ্রাবন্তী বলেন, ‘ভিসা জটিলতার কারনে বাংলাদেশে আসতে পারিনি। তবে স্টেজ প্রোগ্রামের ব্যাপারটি ঠিকই শুনেছেন। আমি একজন শিল্পী। আমার প্রতিটি মুহূর্তের মূল্য আছে। আমি তো কাজ পেলে বসে থাকব না। ভিসা পাইনি বলে স্টেজ প্রোগ্রামে অংশ নেই। গত বছর সিনেমাটির শুটিং শুরু হলেও শেষ হয়নি। এবার টানা ১৫ দিন শুটিং হবে। এরপর সিনেমার ক্যামেরা ক্লোজ করা হবে বলে জানা গেছে।’

‘বিক্ষোভ’ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শ্রাবন্তী বলেন, ‘ছবির গল্পটা ভালো লেগেছে, আনন্দ নিয়ে শুটিংও করছি। আমার চরিত্রটি একেবারে ডিফারেন্ট। আমাকে দর্শক একজন কলেজের শিক্ষিকার চরিত্রে দেখবে। ঢাকার রাজপথে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে উপজীব্য করে গড়ে উঠেছে ‘বিক্ষোভ’ ছবির গল্প। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে একজন সচেতন নাগরিক কিংবা একজন সচেতন শিক্ষিকা হিসেবে এ আন্দোলনে জড়িত। চরিত্রটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’

শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) কলকাতায় মুক্তি পেয়েছে শ্রাবন্তী অভিনীত ‘উড়ান’ ছবি। সেখানে ছবিটির প্রোমোশনে অংশ নিয়ে পরের দিন ঢাকার উদ্দেশ্য উড়াল দেন।

তার কাছে জানতে চাই ‘উড়ান’-এ শ্রাবন্তী কতটা উড়বেন? শ্রাবন্তী বলেন, ‘সেটা দর্শক বলবে। তবে এ রকম চরিত্রে আমি এই প্রথম। এখন অভিনয়ের সময়। অভিনয় আমার প্যাশন। সেই ৯৭ থেকে অভিনয় করছি। কাজের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছি এখন ভাঙার সময়। সেই কারণেই একেবারে সামাজিক সচেতনতার ছবি? দেখুন, আর্সেনিকের ভয়াবহতা নিয়ে আমরা সবাই জানি। কিন্তু বিষয়টাকে গভীরে দেখা এবং সেখান থেকে একটা মেয়ের লড়াই- এই বিষয়টা প্রথম কোনও বাংলা ছবিতে এল। বিষয়ের জন্যই ত্রিদিব রমনের পরিচালনায় এই ছবি করলাম।’

এদিকে, বাংলাদেশে ২৪ জানুয়ারি মুক্তি পেয়েছে অভিমন্যু মুখোপাধ্যায় পরিচালিত এসকে মুভিজ প্রযোজিত শ্রাবন্তী অভিনীত ‘হুল্লোড়’। যেখানে আরও অভিনয় করেছেন সোহম, ওম, দর্শনা বণিক। কলকাতা থেকে আমদানি করে এদেশে ছবিটি মুক্তি দিচ্ছে শাপলা মিডিয়া। জিৎ থেকে দেব, মিমি থেকে নুসরত, সকলেই তথাকথিত কমার্শিয়াল ছবি থেকে বেরিয়ে অন্য ধারার ছবি করছেন। শ্রাবন্তীও পিছিয়ে নেই।

সব ধরনের ছবিতে স্বচ্ছন্দ শ্রাবন্তী। তিনি বলেন, ‘আসলে আমরা দুটোই পারি। কমার্শিয়াল ছবি, আবার কনটেন্ট নির্ভর ছবি। এই দু’দিকেই যাতায়াত সবাই পারে না কিন্তু। যে পাত্রে রাখবেন সেই পাত্রের আকার ধারণ করে ফেলব। আমরা এমনই অভিনেত্রী। আমাকে নায়িকা তৈরি করেছে আমার দর্শকেরা। কিন্তু আমি নিজেকে অভিনেত্রী হিসেবেই দেখতে চাই।’

বাংলাদেশে নিয়মিত কাজ করার ইচ্ছে আছে? জানতে চাইলে শ্রাবন্তী বলেন, ‘বাংলাদেশের ছবি নিয়মিত হবার অনেক ইচ্ছে। ভালো চরিত্র পেলে কাজ করতে চাই। বাংলাদেশ আমার খুব প্রিয়। বাংলাদেশ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছি তাতে কাজ করার জন্য মুখিয়ে আছি। আমার মন চায় বাংলাদেশে এসে নিয়মিত কাজ করি। সুযোগ পেলে লুফে নেব।’

দুই দেশের কাজের পার্থক্য সর্ম্পকে শ্রাবন্তী বলেন, ‘আমার কাছে তেমন পার্থক্য মনে হয় না। আমাদের দেশের মতো বাংলাদেশের সবাই অনেক পরিশ্রমী, কাজ ভালোবাসে। বাংলাদেশের খাবারের মধ্যে সব থেকে বেশি ভালো লাগে ইলিশ মাছ। এ ব্যাপারে কলকাতা থেকে বেশ পার্থক্য। এখানকার ফাঁটাফাটি সব খাওয়া দাওয়া। সত্যি কথা বলতে বাংলাদেশের খাবার সব থেকে সেরা। সেখানে গেলে ডায়েট ভুলে যাই। নাক ডুবিয়ে খাই (হা..হা..হা..)। সবাই অতিথি পরায়ণ। সব থেকে বেশি ভালো লাগে নানা রকমের ভর্তা। কলকাতায় সে রকম ভর্তা হয় না। বাংলাদেশের অনেক কিছু আমার খুব প্রিয়।’

বাংলাদেশের ছবিতে কাজের অফার পেলে নায়ক হিসেবে কাকে চাইবেন? উত্তরে শ্রাবন্তী বলেন, ‘এর আগে শাকিবের সাথে কাজ করেছি। সবার সাথে কাজ করতে চাই। গল্প ও চরিত্রটি গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বছরে আর কী ছবি আসছে? শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে একটা ছবি করলাম ‘ছবিয়াল’। আর আসছে রোম্যান্টিক কমেডি ছবি ‘হুল্লোড়’। শুটিং চলছে রাজা চন্দের ছবি ‘আজব প্রেমের গল্প’।’